টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্র্যান্ড দ্যা ক্যারিবিয়ান ব্র্যান্ড!!!!

Windies Cricket
দলটা যেনো এমনই।কখনোই এদের মধ্যে কাজ করে না সিরিয়াসনেস।নেই অন্য দলের মতো মুকুট একবারে নিজেদের করে নেয়ার আকাঙ্ক্ষা।তারাই বুঝে এই খেলাটার আসল অর্থ। শুধুই বিনোদন।প্রাণখোলা এই হাসিটা তাদের মুখে সবসময়ই লেগে থাকে।তবে যদি তারা সিরিয়াসলি নেয় তাদের সামনে যে দুনিয়ার তাবড় তাবড় দলগুলোও সুবিধা করতে পারবে না।আর সামনে আসছে বিশ্বকাপ। তার আগে একটু সিরিয়াস না হলেই নয়। তাই যেনো দেখিয়ে যাচ্ছে চলমান অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। প্রথম ম্যাচ টা ভাগ্যের সহায়তা থাকলেও আজ সেটা বলার সুযোগ নেই।শুরু থেকে শেষ একদম আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে ক্যারিবিয়ানরা।শুরুতে অবশ্য চাপে পড়ে আন্দ্রে ফ্লেচার ক্রিস গেইলদের উইকেট হারিয়ে।তবে সেখান থেকে দলকে টেনে নিয়ে যান সিমন্স।তিনিও ব্যাক্তিগত ৩০ রানে আউট হলে ম্যাচের হাল ধরে বসেন হেটমায়ার আর ব্রাভো।অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের এক অসাধারণ মেলবন্ধনে গড়া তাদের ১০০+ রানের জুটি। ব্যাক্তিগত ৬১ রানে দুর্ভাগ্যজনক ভাবে হেটমায়ার রান আউট হলেও তার আউট হওয়াটা যেনো শাপেবড় হয় উইন্ডিজ এর জন্য। কারণ এর পরেই ক্রিজে আসেন আন্দ্রে রাসেল।ফর্মের তুঙ্গে থাকা ক্যারিবিয়ান এই মনস্টার মাত্র ৮ বলে খেলেন ২৪ রানের এক টর্নেডো ইনিংস। সাথে ৩৪ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন ব্রাভো।দল পায় ১৯৬ রানের বিশাল পুঁজি। গত ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ভঙ্গুরদশা অজি ব্যাটিং লাইন আপের।গত ম্যাচে একটা সময় চালকের আসনে থাকলেও এই ম্যাচে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে অজিরা।উইন্ডিজ এর বোলিং তাণ্ডবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা।ব্যাটিং এ এবারও লোন ওয়ারিওর সেই মিচেল মার্শ। খেলেন ৫৪ রানের একটি ইনিংস আর কেউই তেমন সুবিধা করতে পারেন নি।ফলে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ১৯.২ ওভারে ১৪০ রানে।৫৬ রানের বিশাল জয় পায় উইন্ডিজ। স্কোরঃউইন্ডিজ ১৯৬/৪ (২০) হেটমায়ার ৬১(৩৬) ব্রাভো ৪৭(৩৪) রাসেল ২৪(৮) অস্ট্রেলিয়া ১৪০/১০ (১৯.২) মি.মার্শ ৫৪(৪২) হেইডেন ওয়ালশ ৪-২৯-০-৩। এই জয়ে সিরিজে এখন ২-০ তে এগিয়ে ক্যারিবিয়ানরা।বিশ্বকাপের আগে যেনো নিজেদের সহজাত খেলাটা বেরিয়ে এসেছে।এটা ধরে রাখতে পারলে ৩য় বারের মতো বিশ্বজয় খুব কঠিন হবার কথা না। তবে সেতো অনেক পরের বিষয়।দিনশেষে ভালোবাসি এই খামখেয়ালীতে ভরা দলটাকেই।অন্তত কোনো একটা দল তো আছে যাদের কাছে খেলা জিনিসটা পুরোটাই বিনোদন। গেইল ব্রাভো রাসেল সিমন্সদের(মিসিং পোলার্)একসাথে সেই পরিচিত ব্রাউন জার্সিতে এমন হাসিমুখ প্রতিটা ক্রিকেটপ্রেমীদের মনেও হাসি ফুটায়। বেঁচে থাকুক ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ